Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রকল্প

মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-২ (পিএলসিইএইচডি-২)

এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-র আর্থিক সহায়তায় পঞ্চগড়সহ ২৯ টি জেলার (৩টি পার্বত্য জেলা ব্যতীত) ২১০টি উপজেলায় ১৭.০৪ লক্ষ্য নব্য সাক্ষরকে লক্ষ্য ধরে মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-২ (পিএলসিইএইচডি-২) গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি দাতা সংস্থা এডিবি-র সাথে ২ ফেব্রম্নয়ারি ২০০২ ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরের পর একনেক কর্তৃক ২৩ এপ্রিল ২০০২ অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৩ সালের জুন মাস পযর্ন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

·        দেশে সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা পরিচালনার মাধ্যমে মানব সম্পদের উন্নয়ন;

·        ১৬ লক্ষ নব্য সাক্ষরকে সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাতহ শিক্ষা কর্মসূচিতে অন্তভুর্ক্তির মাধ্যমে ইতোপূর্বে অর্জিত সাক্ষরতা দক্ষতা ধরে রাখা, সুসংহত করা ও মান উন্নত করা;

·        অব্যাহত শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় কারিগরি দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অধিক আয়ের দ্বারা তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করা, তাদেরকে প্রদীপ্ত ও উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা;

·        লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা ও নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সামাজিক সমতা স্থাপন করা;

·        সমাজে জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা ও গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করা;

·        সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা কর্মসূচিকে শক্তিশালী ও অধিকতর কার্যকর করার লক্ষ্যে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাবির্ক সহযোগিতা প্রদান ; এবং

·        দীর্ঘ মেয়াদী মানব সম্পদ উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

 

 

সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা কোর্সঃ

 

           প্রকল্পের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে দেশের প্রত্যমত্ম অঞ্চলে অবস্থিত নব্য সাক্ষরদের (১১-৪৫ বছর বয়সী) মধ্য হতে (পঞ্চগড়সহ ২৯ টি জেলার) ১৬ লক্ষ জনকে ৯ মাস মেয়াদী সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা কোর্সের আওতায় এনে বাজার চাহিদাভিত্তিক আয় সৃজনীমূলক কাজের দক্ষতা প্রশিক্ষণ দিয়ে মানব সম্পদে পরিণত করা। প্রকল্পটি দেশের ৭টি বিভাগের ২৯ টি জেলার ২১০ টি উপজেলায় বাস্তবায়ন হবে। এ কারণে এ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় পযার্য়ে ৭১৮১ টি কেন্দ্র স্থাপন করে নব্য সাক্ষরদের সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রদান করা হবে। প্রতি কেন্দ্রে দুই শিফটে ৬০ জন (৩০ জন পুরুষ ও ৩০ জন মহিলা) নব্য সাক্ষর সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষার সুযোগ পাবেন। মহিলা শিফটে মহিলা সহায়িকা এবং পুরুষ শিফটে পুরুষ সহায়ক দায়িত্ব পালন করবেন। মহিলা শিফট দিনের বেলায় এবং পুরুষ শিফট রাতের বেলায় কিংবা শিক্ষাথীর্দের সুবিধামত সময়ে পরিচালিত হবে। প্রতি  কেন্দ্র প্রতিদিন ২ ঘন্টা করে পরিচালিত হবে। সপ্তাহে ৬দিন কেন্দ্র চালু থাকবে। শুক্রবার বিংবা হাট/বাজার দিন শিক্ষার্থীদের সুবিধানুযায়ী সপ্তাহে ১দিন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। সপ্তাহে ২দিন সাক্ষরতা উত্তর এবং ৪দিন অব্যাহত শিক্ষা কোর্স পরিচালিত হবে।

অব্যাহত শিক্ষার ট্রেড বিষয়ক কোর্স তালিকাঃ

1.       ম্যশনারী, প্লাম্বিং ও পাইপ ফিটিং

2.      কম্পিউটার ও ফটোকপিয়ারের ব্যবহার ও মেরামতকরণ

3.      বাঁশ, বেতের কাজ ও আধুনিক মৌচাষ

4.       ওয়েল্ডিং

5.      রেফ্রিজারেশন এ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং

6.      শ্যালো পাস্প মেকানিক

7.      রেডিও, টেলিভিশন ও মোবাইল ফোন সার্ভিসিং

8.      প্রাণি সম্পদ

9.      হাউজ ওয়্যারিং

10.   মাশরম্নম, রেশম ও ভুট্টা চাষ

11.   দার্জবিজ্ঞান, হ্যান্ড এমব্রয়ডারী, ব্লক, বাটিক, টাই-ডাই ও স্ক্রীন প্রিন্ট

12.   নার্সারী, সব্জী, ফল ও ফুল চাষ

13.  মাছ চাষ

14.   খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সাবান ও মোমবাতি তৈরী

15.   তালাচাবি, সাইকেল, রিক্সা ও ভ্যানগাড়ি মেরামত

16.  স্যানিটারি ল্যাট্রিন তৈরী ও স্থাপন

17.   বিউটি পার্লার।

 

পিএলসিই কোর্স বাস্তবায়নে এনজিও’র সম্পৃক্ততাঃ

ক) পঞ্চগড় জেলায় মাঠ পযার্য়ে পিএলসিই কোর্স বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত এনজিও আস্থা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অগার্নাইজেশন গত ০১/০৬/২০১২ খ্রি: তারিখ থেকে পঞ্চগড় জেলার ৫টি উপজেলায় ৩৪ x ৫=১৭০টি শিক্ষা কেন্দ্র চালু করেছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মো: নিয়াজউদ্দীন গত ০২/০৬/২০১২ খ্রি: তারিখ পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে শিক্ষা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।

পঞ্চগড় জেলার :     মোট শিক্ষা কেন্দ্র ৩৪ x ৫=১৭০টি, মোট শিফট সংখ্যা ১৭০ x ২=৩৪০টি

                        পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪ x ৩০ x ৫=৫১০০ জন।

          মহিলা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪ x ৩০ x ৫=৫১০০ জন।

                        শিক্ষার্থীর সংখ্যা =১০২০০ জন।

                        ট্রেড সংখ্যা=৫টি (দর্জি বিজ্ঞান, শ্যালো মেশিন মেরামত, হাউজ ওয়্যারিং,প্রাণি সম্পদ ও                 সাইকেল –ভ্যান, রিক্সা মেরামত)।

              

খ) এনজিও’র প্রধান দায়িত্বঃ নির্বাচিত এনজিও স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ও অংশগ্রহণে নিম্নোক্ত দায়িত্বসমূহ পালন করেঃ (১) বেজলাইন সার্ভে, (২) শিক্ষার্থী নিবাচর্ন, (৩) শিক্ষা কেন্দ্রের স্থান নিবাচর্ন, (৪) কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, (৫) কেন্দ্র স্থাপন, (৬) শিক্ষা-উপকরণ বিতরণ, (৭) নির্ধারিত সময়ে পিএলসিই কোর্স শুরু ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করা, (৮) এনজিওর নিজস্ব কাযক্রর্ম পরিবীক্ষণ ও বিএনএফই এর নিকট অগ্রগতির বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ, (৯) শিক্ষার্থীদের আয়বর্ধক কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য বিভিন্ন সংস্থার সাথে সংযোগ সাধন (Linkage).

গ) মাঠ পর্যায়ে পিএলসিই কোর্স বাস্তবায়নে নির্বাচিত এনজিওর কার্যক্রম পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের কাজে প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিটকে সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে ৭টি বিভাগে ৫টি মনিটরিং পার্টনার এজেন্সী (পরামর্শক ফার্ম) নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের MIS Database তৈরীর জন্য এলজিইডির সাথে সমঝোতা চুক্তি করা হয়েছে। এলজিইডি ১০% অব্যাহত শিক্ষা কেন্দ্র নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন দাখিল করে।

জেলায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে কমিটি সমূহঃ(ক) জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কমিটি (ডিনফেক), (খ) উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কমিটি (উনফেক) ও (গ) কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিএমসি)

প্রকল্পের মনিটরিং ব্যবস্থাপনাঃ

 

            প্রতিমাসেই জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার, সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার, প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট (পিমু) এবং বিএনএফই’র কর্মকর্তাগণ মাঠ পযার্য়ে কেন্দ্রভিত্তিক কাযক্রর্ম পরিদর্শন ও মনিটরিং করে থাকেন। উনফেক ও ডিনফেক কর্মকর্তাগণও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কাযক্রর্ম পরিদর্শন/মনিটরিং করেন। পরিদর্শন প্রতিবেদন বিএনএফই এবং পিমুতে প্রেরণ করা হয়। পিমুর মনিটরিং সেল প্রাপ্ত প্রতিবেন বিশ্লেষণ শেষে প্রতিবেদন তৈরী করে বিএনএফই-তে প্রেরণ করে। তাছাড়া প্রতিবেদনের আলোকে মাঠ পযার্য়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়। অনুরূপভাবে বিএনএফইও নিয়মিত মনিটরিং সমন্বয় সভা করে থাকে এবং মাঠ পযার্য়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করে থাকে।

প্রকল্পের চ্যালেঞ্জঃ

১। কেন্দ্র পরিচালনায় স্থানীয় জনসাধারণ এবং অব্যাহত শিক্ষা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির স্বতঃস্ফুর্ত                      ও কার্য়কর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ।

২। মাঠ পযার্য়ের কাযক্রর্মের সাথে সম্পৃক্ত স্থানীয় সরকার, উনফেক, ডিনফেক এবং অন্যান্য সরকারী কমর্কতা-র্কমর্চারীর স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ।

৩। যথাযথ মানের ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে ১৬  লক্ষ্য শিক্ষার্থীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর।

৪। বিভিন্ন পযার্য়ে সেবা প্রদানকারী সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে লিংকেজ নেটওয়ার্ক স্থাপন।

৫। লিংকেজ কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষকদের জনশক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ।

৬। প্রকল্পে নির্বাচিত অদক্ষ এবং প্রতিশ্রুতিহীন এনজিও চিহ্নিতকরণ। এসব এনজিও-র সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করে বিকল্প ব্যবস্থাধীনে কাযক্রর্ম পরিচালনা।

৭। প্রকল্প মেয়াদ শেষে প্রতিষ্ঠিত অব্যাহত শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর স্থায়ীত্ব নিশ্চিতকরণ। কেন্দ্রসমূহকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মিলনকেন্দ্র/সালিশকেন্দ্র/বিনোদন কেন্দ্র/রিসোর্স সেন্টার অর্থাৎ স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তর।

উপসংহারঃ

            প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন হলে প্রকল্পভুক্ত স্বল্প শিক্ষিত গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের লব্ধ    সাক্ষরতা জ্ঞানের পাশাপাশি কারিগরি জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এক একজন মানব সম্পদে        পরিণত হবে।